শিশু সামিউল হত্যা

পরকীয়া প্রেমিকসহ মায়ের মৃত্যুদণ্ড

পরকীয়া প্রেমিকসহ মায়ের মৃত্যুদণ্ড

দেওয়ান নজরুল আলম.ঢাকা :দেশজুড়ে আলোচিত শিশু সামিউল আজম ওয়াফি (৫)হত্যা মামলায় পরকীয়া প্রেমিকসহ মা আয়েশা হুমায়রা এশার ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত।ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি এশার কথিত প্রেমিক শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কু।তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২০ ডিসেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক শেখ নামজুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের আগে ২২ জন সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।উচ্চ আদালত থেকে জামিনে গিয়ে পলাতক আছেন মামলার প্রধান আসামি শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কু। আসামি এশা গত ৮ ডিসেম্বর থেকে পলাতক আছেন।
মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১০ সালের ২২ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ২৪ জুন সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে হত্যা করা হয় শিশু খন্দকার সামিউল আজম ওয়াফিকে। সামিউল কেএম আজম ও আয়েশা হুমায়রা এশা দম্পত্তির একমাত্র সন্তান।সামিউল রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার নবোদয় হাউজিংয়ের গ্রিনউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ইংলিশ মিডিয়ামের প্লে গ্রুপে পড়তো। প্রথমে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ গুম করতে বাসার ফ্রিজে ঢোকানো হয়। এরপর তার লাশ বস্তায় ঢুকিয়ে ২৪ জুন রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।ঘটনার দুইদিন পর ২৪ জুন নিহতের পিতা কেএম আজম সন্তানের হত্যাকারী সন্দেহে স্ত্রী এশা ও তার কথিত প্রেমিক বাক্কুর বিরুদ্ধে আদাবর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক কাজী সাহান হক নিহতের মা আয়েশা হুমায়রা এশা ও তার কথিত প্রেমিক শামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কুকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আদালত। এরপর থেকে মামলার আনু্ষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওই বছরের ৭ মার্চ আদালতে স্ত্রী ও স্ত্রীর কথিত প্রেমিক বাক্কুর বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদি কেএম আজম। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার কান্নায় আদালতের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছিল। মামলা চলাকালীন মারা যান মামলার বাদি কেএম আজম।এরপর একে একে ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। কিন্তু মামলার প্রধান আসামি বাক্কু পলাতক থাকায় ও ২০১৫ সালে বাদি এশাকে জামিনে বের করে আনার পর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ অনেকটা স্থবির হয়ে যায়।
বাদি হলফনামা দিয়ে জামিনে বের করে আনার আগে বহুবার জামিনের আবেদন করেছিলেন এশা। আদালত প্রতিবার তার জামিন নামঞ্জুরের আদেশ উল্লেখ করেন, আসামি আয়েশা হুমায়রার বিরুদ্ধে তার শিশু সন্তান ভিকটিম সামিউলকে অপর আসামি সামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কুর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে উভয় আসামির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা করার অভিযোগ আছে। উভয় আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
অনৈতিক সম্পর্কের কারণে নিজ সন্তানকে খুন করার অভিযোগে আনীত মামলায় আসামির জামিন মঞ্জুর করার সুযোগ নাই। কারণ এ ধরনের খুনের ঘটনা সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায় না। আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর বাদি আদালতে হলফনামা দিয়ে এশার জামিনের আবেদন করেন। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, আসামি এশার সাথে আমার (বাদির) বৈবাহিক সম্পর্ক এখনও বিদ্যমান। আমি কিডনি রোগী, মুমূর্ষ অবস্থায় আছি। আমাকে দেখার কেউ নেই। আমার সেবা যত্নের জন্য স্ত্রীকে পাশে রাখার প্রয়োজন বোধ করছি। তাকে প্রয়োজনে আমার জিম্মায় জামিন দেওয়া হোক।মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় মানবিক কারণে ২০১৫ সালের ২ এপ্রিল আদালত এশার জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর থেকে এশা আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতেন। সর্বশেষ গত ৮ ডিসেম্বর পলাতক হন।
২০১৪ সালের ৪ মার্চ হাইকোর্ট থেকে জামিন পান মামলার প্রধান আসামি সামসুজ্জামান আরিফ ওরফে বাক্কু। জামিন পাওয়ার মাসখানেক পরই ১৫ এপ্রিল পলাতক হয় বাক্কু। তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে।