নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া

প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়, অতঃপর

প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়, অতঃপর

ঢাকা অফিস : নওগাঁয় প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।রোববার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে নওগাঁ সদর মডেল থানায় পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মো. আব্দুল মান্নান মিয়া গ্রেপ্তাদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে বিকেলেই গ্রেপ্তার ৭ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা মো. টিটুর বাসার ভাড়াটিয়া বুলবুলি বেগম (২৩) মোবাইল ফোনে বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলেন। এরপরে তিনি কৌশলে ভাড়াবাসায় প্রেমিকদের ডেকে নিয়ে আসেন। পরে ওই যুবকদের বিবস্ত্র করে ছবি তুলে তা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে আসছিলেন বুলবুলি ও তার সহযোগীরা।
তিনি জানান, এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার দুপুরে আত্রাই থানার বান্দাইখাড়া বাজার এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে মো. নাসির উদ্দিনকে ওই বাসায় ডেকে নিয়ে ঘরে আটকে রাখেন। এসময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যার হুমকি দিতে থাকেন। এসময় ওই যুবককে বিবস্ত্র করে ওই চক্রের সদস্যরা ছবি তোলেন। পরে জিম্মি করে নাসির উদ্দিনের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে চক্রটি। এই অবস্থায় নাসির উদ্দিনকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা পরিশোধ করতে বলে তারা। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানোর পর তার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আকতার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ, সদর থানার ওসি মো. সোহরাওয়ার্দী হোসেন ও ওসি( তদন্ত) ফয়সাল বিন আহসান পুলিশ ফোর্স নিয়ে শনিবার বিকালে বুলবুলি বেগমের ভাড়া বাসায় অভিযান চালান।
এসময় পুলিশ চাঁদাবাজি চক্রের সদস্য জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার সরস্বতীপুর পুকুরপাড়া গ্রামের মো. বুলুর মেয়ে বুলবুলি (২৩), আত্রাই উপজেলার মধুগুড়নই গ্রামের ইউসুফ শেখের ছেলে মো. বাহাদুর শেখ ৩৮), তার স্ত্রী মোছা. মুক্তা (৩৮), চকবাড়িয়া বাউস্থাপাড়া গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে মো. ইদ্রিস আলী (৪৫), কাশিয়াপাড়া গ্রামের মো. আজিজুল হাকিমের ছেলে মো. আল আমিন (৩২), নবারের তাম্বু গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. মুন্নি বিবি (২৮) এবং সদর উপজেলার বাচাড়ীগ্রাম সোনার পাড়ার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. এনামুল হককে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এই তৎপরতা চালিয়ে আসছে বলে স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় মো. নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।