ব্রিটেনের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা

আড়াই হাজার কোটি পাউন্ডের বেশি ব্যবসা হারাবে লন্ডন !

আড়াই হাজার কোটি পাউন্ডের বেশি ব্যবসা হারাবে লন্ডন !

সিটি প্রতিবেদক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে লন্ডন শহর নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা সম্পর্কে এতকাল আশাবাদী ছিল৷ ১লা জানুয়ারি ইইউ-র অভ্যন্তরীণ বাজার ও শুল্কমুক্ত এলাকা ত্যাগ করার পরেও বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় লেনদেন আগের মতোই চলবে, এমনটাই ভেবে রেখেছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা৷ কারণ তাঁদের মনে হয়েছিল, ইইউ নিজস্ব স্বার্থে ভবিষ্যতেও লন্ডনের মতো আর্থিক কেন্দ্রের সুবিধা ভোগ করতে চাইবে৷ বিশেষ করে বিষয়টি চূড়ান্ত ব্রেক্সিট সংক্রান্ত মূল আলোচনার বাইরে রাখায় সেই আশা আরও জোরালো হয়েছিল৷

এবার গোটা বিষয়টিকে ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে৷ ব্রিটেনের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি ভবিষ্যতেও ইইউ-র অভ্যন্তরীণ বাজারের নাগাল পাবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত ১লা জানুয়ারির আগে নেওয়া সম্ভব হবে না বলে ইইউ কমিশনের কিছু সূত্র জানিয়েছে৷ সেই আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত হলে ‘সিটি অফ লন্ডন’ নামে পরিচিত আর্থিক কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় রপ্তানির গ্রাহক হাতছাড়া হয়ে যাবে এবং বছরে প্রায় ২,৬০০ কোটি পাউন্ড মূল্যের লেনদেন লোপ পাবে৷

বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনার শুরু থেকে ইইউ ব্রিটেনের কাছে প্রতিযোগিতার ন্যায্য পরিবেশের দাবি করে আসছে৷ লন্ডনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি স্বেচ্ছায় ইইউ মানদণ্ড ও বিধিনিয়ম মেনে চলার অঙ্গীকার করে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে চাইছে৷ ইইউ সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে একাধিক ‘অ্যাসেসমেন্ট’ বা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইইউ কূটনীতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যে ১লা জানুয়ারির আগে সেই প্রক্রিয়ার ফল পাওয়া যাবে না৷ উল্লেখ্য, গত জুন মাসের মধ্যেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবার কথা ছিল৷ আপাতত সাময়িক অনুমতির ভিত্তিতে লেনদেন চলছে৷ একমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নে দফতরের স্থানান্তর করলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি লেনদেন চালিয়ে যেতে পারবে৷

বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনায় অগ্রগতির অভাবের ফলে ব্রিটেনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে ভবিষ্যৎ লেনদেনের বিষয়টিতেও বিলম্ব ঘটছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন৷ সার্বিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রূপরেখা স্পষ্ট না হওয়ায় ইইউ নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না৷ ১লা জানুয়ারি থেকে ব্রিটেন ইইউ-র বিধিনিয়ম থেকে কতটা বিচ্যুত হতে চায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র না পাওয়া পর্যন্ত আর্থিক পরিষেবা সংক্রান্ত মূল্যায়ন সম্ভব নয়৷

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনার মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো সত্ত্বেও এখনো তেমন অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না৷ আগামী সপ্তাহান্তে দুই পক্ষের মধ্যস্থতাকারীদের মুখোমুখি আলোচনা আবার শুরু হবার কথা৷ দুই পক্ষই যে যার নীতিগত অবস্থানে অনড় রয়েছে৷ চুক্তি ছাড়াই চূড়ান্ত বিচ্ছেদের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে৷